ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি – জাতের তথ্য ও বিবরণ

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি একটি প্রাচীন ও জনপ্রিয় মুরগির জাত, যা মূলত ডুয়াল পারপাজ বা দ্বৈত উদ্দেশ্যে পালন করার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। অর্থাৎ এই জাতটি একসঙ্গে ভালো মানের মাংস ও পর্যাপ্ত ডিম উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে। যদিও আমাদের দেশে ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি তুলনামূলকভাবে নতুন পরিচিত একটি জাত, তবে উপমহাদেশে এর দীর্ঘদিনের অস্তিত্ব এবং ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

ব্লাক অস্ট্রালপ মূলত অস্ট্রেলিয়ার একটি উন্নত ডুয়াল পারপাজ মুরগির জাত, যা সে দেশের আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য বিশেষভাবে উন্নত করা হয়েছে। শক্ত শরীর, ঘন কালো পালক এবং স্থায়ী উৎপাদন ক্ষমতার কারণে এই জাতটি নতুন ও অভিজ্ঞ—উভয় খামারির কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যারা বাণিজ্যিকভাবে মাংস ও ডিম—দুটোই উৎপাদন করতে চান, তাদের জন্য ব্লাক অস্ট্রালপ একটি লাভজনক মুরগির জাত।

অস্ট্রালপ মুরগির ব্রিডিং তথ্য

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগির জাতটি উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ায় উন্নয়ন করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি ভারী ও উৎপাদনক্ষম ডুয়াল পারপাজ মুরগির জাত তৈরি করা, যা একদিকে ভালো মানের মাংস দেবে এবং অন্যদিকে নিয়মিত ডিম উৎপাদনে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এটি যেন অস্ট্রেলিয়ার ভিন্নধর্মী জলবায়ুর সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে—সেই দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই জাতটি তৈরি করতে ব্রিটিশ ব্লাক অরপিংটন মুরগির সাথে রোড আইল্যান্ড রেড মুরগির সংকরায়ন করা হয়। এই দুটি জাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্লাক অস্ট্রালপের শক্ত শরীর, দ্রুত বৃদ্ধির ক্ষমতা এবং উন্নত ডিম উৎপাদনের বৈশিষ্ট্য গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে উৎপাদন ক্ষমতা ও শারীরিক গঠনের আরও উন্নতির জন্য লেগহর্ন এবং প্লাইমাউথ রক মুরগির সাথে সীমিত পরিসরে ক্রস করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ব্লাক অস্ট্রালপ

দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত ব্রিডিং ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্লাক অস্ট্রালপ ধীরে ধীরে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য জাত হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ডুয়াল পারপাজ মুরগির জাত হিসেবে বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক ও পারিবারিক পর্যায়ে পালন করা হচ্ছে।

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগির সাধারণ বৈশিষ্ট্য

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগির দেহগঠন শক্ত ও ভারী প্রকৃতির, যা একে ডুয়াল পারপাজ জাত হিসেবে আলাদা পরিচিতি দেয়। এদের শরীর দেখতে কিছুটা আয়তক্ষেত্রাকার এবং দেহ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ হয়। পূর্ণ বয়স্ক অবস্থায় মোরগ ও মুরগি উভয়ই ভালো ওজন অর্জন করে, যা মাংস উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

এই জাতের অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর ঘন কালো পালক। সূর্যের আলোতে পালকগুলোতে হালকা সবুজাভ ঝিলিক দেখা যায়, যা একে অন্যান্য কালো পালকবিশিষ্ট জাত থেকে আলাদা করে। পালক নরম, ঘন এবং সিল্কি টাইপের হওয়ায় শরীরকে ঠান্ডা ও আঘাত থেকে সুরক্ষা দেয়। মাথা তুলনামূলক বড় এবং ঝুটি ছোট আকারের লালচে হয়ে থাকে।

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগির আয়ুষ্কাল তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ এবং এরা লম্বা সময় ধরে ডিম দিয়ে থাকে। ডিমের রঙ সাধারণত হালকা বাদামি হয়ে থাকে এবং খোসা বেশ শক্ত হয়। একটি সুস্থ ও ভালোভাবে পালন করা মুরগি নিয়মিত ডিম উৎপাদনে সক্ষম।

ওজনের দিক থেকে পূর্ণ বয়স্ক একটি ব্লাক অস্ট্রালপ মোরগের ওজন সাধারণত প্রায় ৩.৫ থেকে ৪.৫ কেজি, আর মুরগির ওজন প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কেজি হয়ে থাকে। এই ভারী দেহগঠন একে মাংস উৎপাদনের জন্যও উপযোগী করে তোলে।

জাতের আচরণ বা মেজাজঃ

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি স্বভাবগতভাবে চঞ্চল হলেও বেশ নমনীয় ও সহনশীল প্রকৃতির। ভারী দেহের মুরগি হওয়া সত্ত্বেও এরা খাদ্য সংগ্রহে সক্রিয় এবং খামারের পরিবেশের সাথে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। মানুষের উপস্থিতিতে খুব বেশি ভয় পায় না, ফলে পারিবারিক ও বাণিজ্যিক—দুটো ধরণের খামারেই পালন সহজ হয়।

অন্য জাতের মুরগির সাথে মিশ্র পালনে সাধারণত সমস্যা না হলেও, কিছু ক্ষেত্রে হালকা আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে খাদ্য বা জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা হলে। মোরগগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে আগ্রাসী ভাব লক্ষ্য করা যায়, তাই একাধিক মোরগ একসাথে রাখার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জায়গা ও আলাদা ব্যবস্থা রাখা উচিত।

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি খোলা ও আবদ্ধ উভয় পরিবেশেই ভালোভাবে পালন করা যায়। খোলা জায়গায় ছাড়লে এরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা ও চারণ করতে পছন্দ করে, আর আবদ্ধ পদ্ধতিতেও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে নিয়মিত উৎপাদন বজায় রাখে।

এদের আবদ্ধ ও খোলা, উভয় পরিবেশেই পালন করা যায়।

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগির রোগ বালাই

ব্লাক অস্ট্রালপ

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগির তেমন বিশেষ কোন রোগ বালাই নেই। সাধারন মুরগির মতই রোগ বালাই দেখা দিতে পারে। তবে কালো পালক এবং ভারী জাত হওয়াতে এদের হিট স্ট্রোক প্রবনতা বেশী। গরমকালে এই বিষয়টা লক্ষ রাখা দরকার।

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি সাধারণত ভালো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জাত। আলাদা করে কোনো নির্দিষ্ট বা জটিল রোগ এই জাতে বেশি দেখা যায় না। তবে অন্যান্য সাধারণ মুরগির মতোই, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকলে কিছু পরিচিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

নোংরা পরিবেশ, ভেজা লিটার, দূষিত পানি এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নিউক্যাসল, গাম্বোরো, কক্সিডিওসিস বা শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। এসব রোগ এড়াতে নিয়মিত খামার পরিষ্কার রাখা, লিটার শুকনা রাখা এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।

ব্লাক অস্ট্রালপ যেহেতু একটি ভারী দেহের এবং ঘন কালো পালকবিশিষ্ট জাত, তাই গরম আবহাওয়ায় এদের হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে খামারে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, ছায়াযুক্ত পরিবেশ এবং সবসময় ঠান্ডা পরিষ্কার পানি সরবরাহ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরমে এদের হাঁপাতে দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রোগ প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত টিকা প্রদান, বয়স অনুযায়ী কৃমিনাশক ব্যবহার এবং অসুস্থ মুরগিকে দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে মৃত্যুহার অনেকটাই কমানো যায়। সঠিক পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থাপনা থাকলে ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি সাধারণত দীর্ঘ সময় সুস্থ ও উৎপাদনক্ষম থাকে।

পালনের উদ্দ্যেশ্য

এরা একটি বিখ্যাত ‘ডুয়াল পারপাজ’ বা ‘দ্বৈত পালনের’ মুরগির জাত। তবে এদের প্রথমত মাংস ও পরে ডিমের জন্য পালন করা হয়। অনেক খামারি এর প্যারেন্টস স্টক করতেও পালন করে থাকেন।

নিচের টেবিলে এক নজরে ব্লাক অস্ট্রালপ জাতের মুরগির তথ্য দেয়া আছে।

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি  | জাতের তথ্য বা প্রোফাইল

জাতের নাম: ব্লাক অস্ট্রালপ।
অন্য নাম: অস্ট্রালপ, কালো টাইগার।
পালনের উদ্দ্যেশ্য: মাংস এবং ডিম উভয় দ্বৈত-উদ্দেশ্য।
জাতের আচরণ: শান্ত, বন্ধুত্বপূর্ণ, কৌতুহলী, সহজে পালন।
আকার: ভারী। সাধারণত ৩ থেকে ৫ কেজি।
তা দেয়ার প্রবনতা: কম।
ঝুঁটি: ছোট।
জলবায়ু সহনশীলতা: সকল জলবায়ু।
ডিম রঙ: হালকা বাদামী
ডিমের আকার: বড়
ডিম উৎপাদনশীলতা: মোটামুটি ভাল। বছরে ২৫০ ডিম (৬৫-৭০%)
বৈচিত্র্য: শুধুমাত্র কালো
মূল দেশ : অস্ট্রেলিয়া।

ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি একটি প্রাচীন, নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় ডুয়াল পারপাজ মুরগির জাত, যা মাংস ও ডিম—উভয় উৎপাদনের জন্য সমানভাবে উপযোগী। শক্ত দেহগঠন, দীর্ঘ সময় ধরে ডিম দেওয়ার ক্ষমতা এবং তুলনামূলক ভালো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে এই জাতটি নতুন ও অভিজ্ঞ খামারিদের কাছেই সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।

যদিও বাংলাদেশে ব্লাক অস্ট্রালপ এখনও তুলনামূলক নতুন, তবে সঠিক পরিচর্যা, উপযুক্ত খাবার ব্যবস্থা ও গরমকালীন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই জাত থেকে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে যারা বাণিজ্যিকভাবে ডুয়াল পারপাজ মুরগি পালন করতে চান বা প্যারেন্টস স্টক হিসেবে একটি স্থিতিশীল জাত খুঁজছেন, তাদের জন্য ব্লাক অস্ট্রালপ একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে।

পরিকল্পিত পালন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি খামারকে একটি লাভজনক ও টেকসই উদ্যোগে পরিণত করা সম্ভব।

বেইজিং হাঁসের বাচ্চা পালন পদ্ধতি — আধুনিক ও লাভজনক খামার ব্যবস্থাপনা

বেইজিং হাঁসের বাচ্চা পালন পদ্ধতি — আধুনিক ও লাভজনক খামার ব্যবস্থাপনা

PoultryGaints Oct 30, 2025 4 min read

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং হাঁস বা পেকিন হাঁস (Pekin Duck) খামার জনপ্রিয়তা পেয়েছে দ্রুত বৃদ্ধি, উন্নত মাংসের মান এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাজার উপযোগী হওয়ার কারণে। এই হাঁসের বাচ্চাগুলো সাধারণত একদিন বয়সে খামারে সরবরাহ করা হয়, যাদের পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা…

dummy-img

লেয়ার মুরগি পালন

PoultryGaints Mar 14, 2025 4 min read

বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প দ্রুত বর্ধনশীল একটি সেক্টর। আমাদের দেশের প্রাণিজ আমিষের শতকরা ৩৮ ভাগ আসে মুরগির মাংস ও ডিম থেকে। লেয়ার ডিম উৎপাদনকারী একটি মুরগির বিশেষ জাত যা পোল্ট্রি শিল্পের একটি উল্লেখযােগ্য অংশ। সঠিকভাবে লেয়ার মুরগি পালন করলে মূলধন লগ্নিকারী…

হাঁস পালন পদ্ধতি: নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড | পরিচর্যা ও খামার ব্যবস্থাপনা

হাঁস পালন পদ্ধতি: নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড | পরিচর্যা ও খামার ব্যবস্থাপনা

PoultryGaints Mar 14, 2025 10 min read

বাংলাদেশে হাঁস পালন একটি অত্যন্ত লাভজনক ও জনপ্রিয় খামার কার্যক্রম। গ্রামাঞ্চলের পুকুর, খাল, বিল– এই প্রাকৃতিক পরিবেশ হাঁস পালনের জন্য একেবারেই উপযোগী। কম খরচে দ্রুত বর্ধনশীল হওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি থাকা এবং ডিম ও মাংসের বাজার চাহিদা স্থায়ী…

dummy-img

সবচেয়ে বেশি ডিম দেয় কোন মুরগি? ডিম উৎপাদনে শীর্ষ মুরগির জাত

PoultryGaints Feb 28, 2025 3 min read

মুরগি পালন একটি লাভজনক পেশা, বিশেষ করে যদি আপনি এমন মুরগি পালন করেন যা বেশি ডিম দেয়। তবে সব মুরগির ডিম উৎপাদনের ক্ষমতা একই রকম নয়। মুরগি পালনে সঠিক জাত নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যদি আপনি বাণিজ্যিকভাবে ডিম…

dummy-img

চিনা হাঁস কত দিনে ডিম দেয় -জানুন বিস্তারিত

PoultryGaints Feb 26, 2025 6 min read

চিনা হাঁস (Muscovy Duck) একটি জনপ্রিয় হাঁসের জাত, যা তার মাংস, ডিম এবং সৌন্দর্যের জন্য পালন করা হয়। এই হাঁসের ডিম উৎপাদন ক্ষমতা এবং ডিম দেওয়ার সময়সূচী সম্পর্কে জানা খামারিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্লগে আমরা চিনা হাঁস কত দিনে…

আরো পড়তে পারেন..

কাদাখনাথ মুরগি

বাংলাদেশে প্রাপ্ত বিভিন্ন দেশী মুরগি ও তার বৈশিষ্ট্য

ফাউমি মুরগি সম্পর্কে দরকারী তথ্য

সিল্কি মুরগির বৈশিষ্ট্য এবং সমস্ত তথ্য

ক্রয়লার বা কয়লার মুরগি সম্পর্কিত তথ্

2 thoughts on “ব্লাক অস্ট্রালপ মুরগি – জাতের তথ্য ও বিবরণ”

  1. ভাই! সঠিক অরিজিনাল অস্ট্রালপ মুরগী বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যাবে?
    নাম ঠিকানা ও ফোন নাম্বার দেওয়া যাবে

  2. ভাই! সঠিক অরিজিনাল অস্ট্রালপ মুরগী বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যাবে?
    নাম ঠিকানা ও ফোন নাম্বার দেওয়া যাবে

Leave a Comment