ব্রয়লার মুরগির ঔষধের তালিকা।ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধির ঔষধের তালিকা ও কৌশলঃ
পোল্ট্রি খামার করার জন্য সবথেকে জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি পালন। তবে নতুন খামারিদের মধ্যে প্রথম থেকেই যে ভয়টি কাজ করে তা হল, সঠিক নিয়মে ব্রয়লার মুরগি পালন করা। এক্ষেত্রে ব্রয়লার মুরগির ঔষধের তালিকা থাকলে পালন পদ্ধতি সহজ হয়। আমরা এখানে ব্রয়লার মুরগির প্রথম দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত একটি ঔষধের তালিকা দেয়ার চেষ্টা করেছি।
ব্রয়লার হচ্ছে উন্নতমানের একটি হাইব্রিড মুরগির জাত। ফলে স্বভাবতই এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেশি মুরগির তুলনায় কম। সঠিক নিয়ম ও যত্নের সাথে পালন করা হলে ব্রয়লার মুরগির দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পাবে।
| বয়স | সকাল | দুপুর | বিকাল/রাত |
| ১ম দিন | গ্লুকোজ/ইলেকট্রোলাইট | ইলেকট্রোলাইট | ডক্সিসাইক্লিন* |
| ২য় দিন | ডক্সিসাইক্লিন* | ইলেকট্রোলাইট | ডক্সিসাইক্লিন* |
| ৩য় দিন | ডক্সিসাইক্লিন* | ভিটামিন সি | ডক্সিসাইক্লিন* |
| ৪র্থ দিন | ভিটামিন বি কমপ্লেক্স | – | ভিটামিন বি কমপ্লেক্স |
| ৫ম দিন | এ ডি৩ ই | – | – |
| ৬ষ্ঠ দিন | জিংক | – | ই-সেল |
| ৭ম দিন | জিংক | – | ই-সেল |
| ৮ম দিন | লিভারটনিক | – | ক্যালসিয়াম |
| ৯ম দিন | লিভারটনিক | – | – |
| ১০ম দিন | এ ডি৩ ই | – | এমক্সাসিলিন* |
| ১১তম দিন | এমক্সাসিলিন* | ইলেকট্রোলাইট/ভিটা সি | এমক্সাসিলিন* |
| ১২তম দিন | এমক্সাসিলিন* | ইলেকট্রোলাইট/ভিটা সি | এমক্সাসিলিন* |
| ১৩তম দিন | এমক্সাসিলিন* | ইলেকট্রোলাইট/ভিটা সি | এমক্সাসিলিন* |
| ১৪তম দিন | জিংক | – | ক্যালসিয়াম |
| ১৫তম দিন | লিভারটনিক | – | – |
| ১৬তম দিন | লিভারটনিক | – | এমাইনো এসিড |
| ১৭তম দিন | এ ডি৩ ই | – | – |
| ১৮তম দিন | – | – | ক্যালসিয়াম |
| ১৯তম দিন | জিংক | – | – |
| ২০তম দিন | জিংক | – | – |
| ২১তম দিন | এমাইনো এসিড | – | এ ডি৩ ই |
| ২২তম দিন | সিপ্রো* | ইলেকট্রোলাইট/ভিটা সি | সিপ্রো* |
| ২৩তম দিন | সিপ্রো* | ইলেকট্রোলাইট/ভিটা সি | সিপ্রো* |
| ২৪তম দিন | সিপ্রো* | ইলেকট্রোলাইট/ভিটা সি | সিপ্রো* |
| ২৫তম দিন | লিভারটনিক | – | – |
| ২৬তম দিন | লিভারটনিক | – | ক্যালসিয়াম |
| ২৭তম দিন | ই-সেল | – | – |
| ২৮তম দিন | এমাইনো এসিড | – | – |
| ২৯তম দিন | – | – | এমাইনো এসিড |
| ৩০তম দিন | গ্রোথ প্রোমোটর | – | – |
| ৩১তম দিন | গ্রোথ প্রোমোটর | – | – |

এখানে উল্লেক্ষিত ব্রয়লার মুরগির ঔষধের তালিকা অনুযায়ি ঔষধ প্রয়োগ করলে খুব সুন্দর গ্রোথ আসবে আশা করি। তদবে নিচের বিষয়গুলি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
- তারকা চিহ্নিত ঔষধ প্রয়োগের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
- ঠিকমত ব্রয়লার মুরগির ভ্যাকসিন সিডিউল মেনে চলতে হবে।
- আবহাওয়া ও স্থানভেদে অভিজ্ঞ ভেটেনারিয়ান এর পরামর্শে এই তালিকা পরিমার্জন করা যেতে পারে।
ব্রয়লার মুরগিকে পরিষ্কার সাদা-পানি পান করালে ভালো গ্রোথ আসে।মুরগিকে যত বেশি সাদাপানি দিবেন তত বেশি পরিমানে পানি পান করবে এবং ভালো ওজন আসবে।
আপনি যদি এন্টিবায়োটিক ছাড়া ব্রয়লার মুরগি পালন করতে পারেন তবে ব্রয়লার মুরগি আরো দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পাবে।
ব্রয়লার মুরগির দ্রুত বৃদ্ধির কিছু কৌশলঃ
- ভালো মানের বাচ্চা খামারে উঠাতে হবে। বাচ্চার ওজন যেন একই রকম থাকে।
- বাচ্চার ব্রুডারে যথাযথ খাবার, পানির পাত্র লাইট দিতে হবে।
- পরিবেশ ঠান্ডা বা রাতে বেশি পরিমানে খাদ্য খাওয়াতে হবে।
- ভিটামিন মিনারেল ও গ্রোথ প্রোমোটর ডাঃ এর পরামর্শে দেয়া যেতে পারে।
- পানি ও খাবারের পাত্র বাড়াতে হবে।
- ভালো মানের ফিড দিতে হবে।
- সবসময় পানি রাখতে হবে।
- সর্বোপরি মুরগিকে সুস্থ রাখতে হবে
ব্রয়লার মুরগি পালনে বাচ্চা ছোট-বড় হওয়া সমস্যায় করণীয়ঃ
প্রায়ই দেখা যায় একই ব্যাচে একই বয়সের ব্রয়লার বাচ্চা কিছু দিন পর ছোট-বড় হয়ে যায়।এজন্যে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন প্রয়োজনের তুলনায় কম খাদ্য ও পানির পাত্র থাকা।
প্রথম সপ্তাহে বিশেষ করে এক-তিন দিন বয়স পর্যন্ত বাচ্চার চলাচল সীমিত থাকে এবং খাদ্য না চেনার কারণে খাদ্য খাওয়ায় তেমন প্রতিযোগিতা থাকে না। তাই এসময়ে যেসব বাচ্চা এক বা দুই দিন ভালোভাবে খাদ্য খেতে পারে না সেগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরে খাদ্য খাওয়া প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ছোট হয়ে যায়।

আরও পড়ুন..